১ মিনিটে ঘুম আসার উপায় জেনে নিন

১ মিনিটে ঘুম আসার উপায় সম্পর্কে জানার জন্য আমার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন। প্রথমে আপনাকে আমার ওয়েবসাইটে স্বাগতম ।আপনি হয়তো জানেন না যে আমাদের হাতে এন্ড্রয়েড ফোন থাকার কারণে মূলত ঘুম আসে না। অ্যান্ড্রয়েড ফোন না থাকলে আমরা তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যেতে পারি।

আসলে আমাদের এন্ড্রয়েড ফোন থেকে এড়িয়ে চলা উচিত। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের হাতে এন্ড্রয়েড ফোন রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত মোবাইলে ফেসবুকে বিভিন্ন রিলস দেখে। এছাড়াও মানুষ তার জীবিকা নির্বাহের জন্য অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় কাটায়। চলুন নিচে তার বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ ১ মিনিটে ঘুম আসার উপায় 

১ মিনিটে ঘুম আসার উপায়

১ মিনিটে ঘুম আসার উপায় এটা সবার মনেই প্রশ্ন? ঘুম মানুষের জীবনে একটি অপরিহার্য অংশ মনে করা হয়। প্রতিদিন নিয়মিত পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম না হলে মানুষের শরীরে এবং মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অনেক মানুষ ঘুম না আসার সমস্যায় ভুগছেন। এখন অনেক মানুষই রয়েছেন যারা রাতে বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় ঘুমের অপেক্ষা বা ঘুম আসার চেষ্টায় থাকেন। 

ঘড়িতে এগারোটা বারোটা বেজে যায় কিন্তু ঘুম আসে না। এই সমস্যা এখন সব বয়সের মানুষেরই রয়েছে। তবে কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিক ভাবে কার্যকরী কৌশল অনুসরণ করলেই এক মিনিটে ঘুম চলে আসবে। যেমন, গভীরভাবে নাক দিয়ে শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন, শরীর সোজা ও আরামদায়ক ভঙ্গিতে সুয়ে থাকুন, চোখ বন্ধ করে শরীরের সব বেশি একা একা ঢিলা করুন, মাথার ভেতরের চিন্তা থামাতে একটি শান্ত শব্দ মনে মনে বলুন ।

সবচেয়ে বড় কথা হল ঘুমানোর আগে মোবাইল বন্ধ করতে হবে, দিনের বেলায় শরীরকে একটু খাটান পরিশ্রম করেন তাহলে রাতের বেলায় অটোমেটিক ঘুম চলে আসবে। নিয়মিত চর্চা করুন এতে মস্তিষ্ক দ্রুত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলবে। ঘরের লাইট বন্ধ করুন এবং শান্ত একটি গান শুনে ঘুমিয়ে পড়ুন।

ঘুম না আসলে করনীয় কি

ঘুম না আসার একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে শরীর ও মনের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। তাই সময় মত আমরা কিছু করণীয় মেনে চলবো।

 প্রথমত, আমরা প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলবো। এতে করে আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি ঠিক থাকবে এবং ঘুম অতি সহজেই হবে। ঘুমানোর অত্যন্ত এক ঘণ্ আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি ব্যবহার বন্ধ রাখাই ভালো কারণ এতে করে নীল আলোক মস্তিষ্কের জাগ্রত রাখতে সাহায্য করে। 

দ্বিতীয়ত, ঘুমানোর আগে ভারি খাবার, অতিরিক্ত চা বা কফি পানা করায় আমাদের উচিত এগুলোকে এড়িয়ে চলা উচিত। চাইলে হালকা গরম দুধ বা ভেষজ চাপান করা যেতে পারে যা আমাদের ঘুম আনতে সাহায্য করে। 

তৃতীয়ত, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাচলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং মানসিক চাপ কমে রাতে এতে ঘুম ভালো হয় ‌ তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম করা ঠিক নয় এতে শরীরের ক্ষতি হয়।
এছাড়া, ঘুমানোর ঘর শান্ত, পরিষ্কার ও আরামদায়ক রাখা দরকার। এতে করে ঘুমানোর আগে দুশ্চিন্তা বা অতিরিক্ত চিন্তা করলে গভীর শ্বাস নেওয়া, কোরআন তেলোয়াত বা ধ্যান করা উপকারী হতে পারে। যদি এসব অভ্যাস মানার পরেও ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

ঘুম না আসার কারণ

আমরা উপরে জেনে এসেছি যে ঘুম না আসলে কি করনীয় করতে হয় এবার আমরা ঘুম আসার করণীয় সম্পর্কে জানব, ঘুম না আসার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে, যা শারীর িক ও মানসিক দুই দিকের সঙ্গে জড়িত। আধুনিক জীবনে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা হলো ঘুমের সমস্যা অন্যতম বড় কারণ। কাজের চাপে, পারিবারিক চিন্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মস্তিষ্কে সারাক্ষণ চাপ রাখার ফলে ঘুম আসতে চায় না। এছাড়াও আমাদের মস্তিষ্ক ের অতিরিক্ত চিন্তার অভ্যাস ও অনিদ্রার কারণ হতে পারে। 

অনিয়মিত জীবনযাপন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ । প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমানো ও জাগা, রাত জেগে মোবাইল দেখা বা টিভি দেখা শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের সন্ধান নষ্ট করে দেয়। এতে করে আমরা মোবাইল ও কম্পিউটারের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, জান ঘুমের জন্য জরুরী। 
খাদ্যাভাসের  প্রভাব ও এখনো কম নয়। অতিরিক্ততা চা, কফি, এনার্জি ড্রিঙ্ক বাধূমপান স্নায়ুকে উত্তেজিত করে তোলে, ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। 

রাতে ভারী খাবার বা ঝাল খাবার খেলে হজমের সমস্যা হয় যা ঘুমের জন্য বাধা সৃষ্টি  করে। এছাড়াও কিছু রোগ রয়েছে যেমন গ্যাস্ট্রিক, থাইরয়েড সমস্যা, ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট ও ঘুম না আসার কারণ হতেও পারে। তাই ঘুমের সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা খুব জরুরী। এইসব অভ্যাস না হলে অবশ্যই আপনাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


ঘুম কম হলে কি ক্ষতি হয়

 ঘুম কম হলে  মন ও শরীর দুটোই ভালো থাকে না। ঘুম কম হলে শরীর ও মনের নানা রকম বাস্তবতা ও প্র্যাকটিক্যাল ভাবেই আমরা দৈনন্দ জীবনেই গড়ে উঠেছি। প্রথমত, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সকালে ঘুম ঘুম ভাব থেকে যায় এবং কাজে মনোযোগ থাকে না। এর ফলে পড়াশোনা বা অফিসের কাজে ভুলের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং কাজের গতি কমে যায়। 

দ্বিতীয়ত, ঘুমের অভাবে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। সামান্য বিষয়ে রাগ, বিরক্ত বা হতাশা কাজ করে।  পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলে প্রভাব ফেলে। নিয়মিত ঘুম কম হলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়। নতুন করে কিছু শেখার ক্ষমতা থাকেনা। পরীক্ষার সময় বা কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়।

শারীরিক দিক থেকেও ঘুম কম হওয়া ক্ষতিকর। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, কলেজ সহজেই সর্দি ,কাশি, জরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আমাদের শরীরে দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এছাড়া হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া য় ওজন বাড়তে পারে এবং শরীরের ক্লান্তি স্থায়ী হয়ে যায়। তাই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য পর্যাপ্ত ও অনিয়মিত ঘুম অত্যন্ত জরুরী।

রাতে ঘুম না আসার রোগের লক্ষণ 

রাতে ঘুম না হলে তৈরি হতে পারে মারাত্মক তিনটি রোগ। এগুলো হলো ইনসমনিয়া, রেস্টোলেস লেগ সিনড্রোম এবং নার্কোলেপসি। চলুন আমরা জেনে নি ই এই তিনটি মারাত্মক রোগ সম্পর্কে।
 
ইনসমনিয়াঃ এই রোগটি হলো অনিদ্রা। আপনি রাতে বিছানায় শুয়ে ঘুমের জন্য চেষ্টা করছেন দু চোখের পাতা কোনভাবে এক হতে চাচ্ছেনা ঘুমের চেষ্টা করছেন তবুও ব্যর্থ হচ্ছেন। আবার যদি ঘুম আসেও তাহলেও ঘুমানোর পর মধ্যরাতে হঠাৎ যেন জেগে যাচ্ছেন। আপনি অনেক চেষ্টার পরেও ঘুমে ব্যর্থ। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এটি সাধারণ ব্যাপার মনে করে গুরুত্ব দেয় না। আপনার যদি ঘুমের এই নিয়মিত সমস্যা চলতে থাকে তাহলে বিভিন্ন অসুখে পরিণত হয়। সারাদিনের ব্যস্ততা ও কাজকর্ম শেষেও আপনার শরীর ও মস্তিষ্কের বিশ্রাম নেওয়ার এই প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে না এলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই সমস্যাটিকে বলা হয় ইনসমনিয়া।

রেস্টোলেস লেগ সিনড্রোম ঃ এই সমস্যায় যদি আপনি ভোগতে থাকেন তখন বিছানায় শোয়ার সাথে সাথে এক অস্বস্তিকর অনুভূতি আপনাকে ঘিরে ধরবে। এই অস্বস্তি রোগ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় দু পায়ে। অনেকক্ষণ বসে থাকলে পা দিয়ে কিছু শিড় শিড় অনুভূত হয়। এই অস্বস্তি এ রাতে অনেক সময় তা নাড়াতে থাকেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ক্রিয়েটিভ ভেরিটিনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url