১ মিনিটে ঘুম আসার উপায় জেনে নিন

১ মিনিটে ঘুম আসার উপায় সম্পর্কে জানার জন্য আমার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন। প্রথমে আপনাকে আমার ওয়েবসাইটে স্বাগতম ।আপনি হয়তো জানেন না যে আমাদের হাতে এন্ড্রয়েড ফোন থাকার কারণে মূলত ঘুম আসে না। অ্যান্ড্রয়েড ফোন না থাকলে আমরা তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যেতে পারি।

১-মিনিটে-ঘুম-আসার-উপায়-জেনে-নিন

আসলে আমাদের এন্ড্রয়েড ফোন থেকে এড়িয়ে চলা উচিত। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের হাতে এন্ড্রয়েড ফোন রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত মোবাইলে ফেসবুকে বিভিন্ন রিলস দেখে। এছাড়াও মানুষ তার জীবিকা নির্বাহের জন্য অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় কাটায়। চলুন নিচে তার বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ ১ মিনিটে ঘুম আসার উপায় 

১ মিনিটে ঘুম আসার উপায়

১ মিনিটে ঘুম আসার উপায় এটা সবার মনেই প্রশ্ন? ঘুম মানুষের জীবনে একটি অপরিহার্য অংশ মনে করা হয়। প্রতিদিন নিয়মিত পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম না হলে মানুষের শরীরে এবং মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অনেক মানুষ ঘুম না আসার সমস্যায় ভুগছেন। এখন অনেক মানুষই রয়েছেন যারা রাতে বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় ঘুমের অপেক্ষা বা ঘুম আসার চেষ্টায় থাকেন। 

ঘড়িতে এগারোটা বারোটা বেজে যায় কিন্তু ঘুম আসে না। এই সমস্যা এখন সব বয়সের মানুষেরই রয়েছে। তবে কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিক ভাবে কার্যকরী কৌশল অনুসরণ করলেই এক মিনিটে ঘুম চলে আসবে। যেমন, গভীরভাবে নাক দিয়ে শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন, শরীর সোজা ও আরামদায়ক ভঙ্গিতে সুয়ে থাকুন, চোখ বন্ধ করে শরীরের সব বেশি একা একা ঢিলা করুন, মাথার ভেতরের চিন্তা থামাতে একটি শান্ত শব্দ মনে মনে বলুন ।

সবচেয়ে বড় কথা হল ঘুমানোর আগে মোবাইল বন্ধ করতে হবে, দিনের বেলায় শরীরকে একটু খাটান পরিশ্রম করেন তাহলে রাতের বেলায় অটোমেটিক ঘুম চলে আসবে। নিয়মিত চর্চা করুন এতে মস্তিষ্ক দ্রুত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলবে। ঘরের লাইট বন্ধ করুন এবং শান্ত একটি গান শুনে ঘুমিয়ে পড়ুন।

ঘুম না আসলে করনীয় কি

ঘুম না আসার একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে শরীর ও মনের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। তাই সময় মত আমরা কিছু করণীয় মেনে চলবো।প্রথমত, আমরা প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলবো। এতে করে আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি ঠিক থাকবে এবং ঘুম অতি সহজেই হবে। ঘুমানোর অত্যন্ত এক ঘণ্ আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি ব্যবহার বন্ধ রাখাই ভালো কারণ এতে করে নীল আলোক মস্তিষ্কের জাগ্রত রাখতে সাহায্য করে। 

দ্বিতীয়ত, ঘুমানোর আগে ভারি খাবার, অতিরিক্ত চা বা কফি পানা করায় আমাদের উচিত এগুলোকে এড়িয়ে চলা উচিত। চাইলে হালকা গরম দুধ বা ভেষজ চাপান করা যেতে পারে যা আমাদের ঘুম আনতে সাহায্য করে। 

তৃতীয়ত, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাচলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং মানসিক চাপ কমে রাতে এতে ঘুম ভালো হয় ‌ তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম করা ঠিক নয় এতে শরীরের ক্ষতি হয়।এছাড়া, ঘুমানোর ঘর শান্ত, পরিষ্কার ও আরামদায়ক রাখা দরকার। এতে করে ঘুমানোর আগে দুশ্চিন্তা বা অতিরিক্ত চিন্তা করলে গভীর শ্বাস নেওয়া, কোরআন তেলোয়াত বা ধ্যান করা উপকারী হতে পারে। যদি এসব অভ্যাস মানার পরেও ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

ঘুম না আসার কারণ

আমরা উপরে জেনে এসেছি যে ঘুম না আসলে কি করনীয় করতে হয় এবার আমরা ঘুম আসার করণীয় সম্পর্কে জানব, ঘুম না আসার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে, যা শারীর িক ও মানসিক দুই দিকের সঙ্গে জড়িত। আধুনিক জীবনে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা হলো ঘুমের সমস্যা অন্যতম বড় কারণ। কাজের চাপে, পারিবারিক চিন্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মস্তিষ্কে সারাক্ষণ চাপ রাখার ফলে ঘুম আসতে চায় না। এছাড়াও আমাদের মস্তিষ্ক ের অতিরিক্ত চিন্তার অভ্যাস ও অনিদ্রার কারণ হতে পারে। 

অনিয়মিত জীবনযাপন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ । প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমানো ও জাগা, রাত জেগে মোবাইল দেখা বা টিভি দেখা শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের সন্ধান নষ্ট করে দেয়। এতে করে আমরা মোবাইল ও কম্পিউটারের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, জান ঘুমের জন্য জরুরী। 
খাদ্যাভাসের  প্রভাব ও এখনো কম নয়। অতিরিক্ততা চা, কফি, এনার্জি ড্রিঙ্ক বাধূমপান স্নায়ুকে উত্তেজিত করে তোলে, ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

১-মিনিটে-ঘুম-আসার-উপায়-জেনে-নিন

রাতে ভারী খাবার বা ঝাল খাবার খেলে হজমের সমস্যা হয় যা ঘুমের জন্য বাধা সৃষ্টি  করে। এছাড়াও কিছু রোগ রয়েছে যেমন গ্যাস্ট্রিক, থাইরয়েড সমস্যা, ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট ও ঘুম না আসার কারণ হতেও পারে। তাই ঘুমের সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা খুব জরুরী। এইসব অভ্যাস না হলে অবশ্যই আপনাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঘুম কম হলে কি ক্ষতি হয়

 ঘুম কম হলে  মন ও শরীর দুটোই ভালো থাকে না। ঘুম কম হলে শরীর ও মনের নানা রকম বাস্তবতা ও প্র্যাকটিক্যাল ভাবেই আমরা দৈনন্দ জীবনেই গড়ে উঠেছি। প্রথমত, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সকালে ঘুম ঘুম ভাব থেকে যায় এবং কাজে মনোযোগ থাকে না। এর ফলে পড়াশোনা বা অফিসের কাজে ভুলের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং কাজের গতি কমে যায়। 

দ্বিতীয়ত, ঘুমের অভাবে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। সামান্য বিষয়ে রাগ, বিরক্ত বা হতাশা কাজ করে।  পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলে প্রভাব ফেলে। নিয়মিত ঘুম কম হলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়। নতুন করে কিছু শেখার ক্ষমতা থাকেনা। পরীক্ষার সময় বা কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়।

শারীরিক দিক থেকেও ঘুম কম হওয়া ক্ষতিকর। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, কলেজ সহজেই সর্দি ,কাশি, জরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আমাদের শরীরে দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এছাড়া হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া য় ওজন বাড়তে পারে এবং শরীরের ক্লান্তি স্থায়ী হয়ে যায়। তাই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য পর্যাপ্ত ও অনিয়মিত ঘুম অত্যন্ত জরুরী।

রাতে ঘুম না আসার রোগের লক্ষণ 

রাতে ঘুম না হলে তৈরি হতে পারে মারাত্মক তিনটি রোগ। এগুলো হলো ইনসমনিয়া, রেস্টোলেস লেগ সিনড্রোম এবং নার্কোলেপসি। চলুন আমরা জেনে নি ই এই তিনটি মারাত্মক রোগ সম্পর্কে।
 
ইনসমনিয়াঃ এই রোগটি হলো অনিদ্রা। আপনি রাতে বিছানায় শুয়ে ঘুমের জন্য চেষ্টা করছেন দু চোখের পাতা কোনভাবে এক হতে চাচ্ছেনা ঘুমের চেষ্টা করছেন তবুও ব্যর্থ হচ্ছেন। আবার যদি ঘুম আসেও তাহলেও ঘুমানোর পর মধ্যরাতে হঠাৎ যেন জেগে যাচ্ছেন। আপনি অনেক চেষ্টার পরেও ঘুমে ব্যর্থ। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এটি সাধারণ ব্যাপার মনে করে গুরুত্ব দেয় না। আপনার যদি ঘুমের এই নিয়মিত সমস্যা চলতে থাকে তাহলে বিভিন্ন অসুখে পরিণত হয়। সারাদিনের ব্যস্ততা ও কাজকর্ম শেষেও আপনার শরীর ও মস্তিষ্কের বিশ্রাম নেওয়ার এই প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে না এলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই সমস্যাটিকে বলা হয় ইনসমনিয়া।

রেস্টোলেস লেগ সিনড্রোম ঃ এই সমস্যায় যদি আপনি ভোগতে থাকেন তখন বিছানায় শোয়ার সাথে সাথে এক অস্বস্তিকর অনুভূতি আপনাকে ঘিরে ধরবে। এই অস্বস্তি রোগ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় দু পায়ে। অনেকক্ষণ বসে থাকলে পা দিয়ে কিছু শিড় শিড় অনুভূত হয়। এই অস্বস্তি এ রাতে অনেক সময় তা নাড়াতে থাকেন।


চোখ বন্ধ করে সম্পূর্ণ অন্ধকার কল্পনা করা

চোখ বন্ধ করে সম্পূর্ণ অন্ধকার কল্পনা করা মানুষের মন ও কল্পনার এক গভীর অভিজ্ঞতা। যখন আমরা চোখ বন্ধ করি এবং চারপাশের সব আলো মুছে যাওয়ার কথা ভাবি, তখন বাহ্যিক জগতের সঙ্গে আমাদের সংযোগ সাময়িকভাবে থেমে যায়। সেই মুহূর্তে মন নিজের ভেতরের জগতে প্রবেশ করে। সেই মুহূর্তে মন নিজের ভেতরের জগতে প্রবেশ করে। অন্ধকার এখানে শুধু আলোহীনতা নয়, বরং এক ধরনের নীরবতা, যেখানে চিন্তা, অনুভূতি ও স্মৃতিগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

সম্পূর্ণ অন্ধকার কল্পনা করলে অনেক সময় ভয় কাজ করতে পারে। কারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই অজানাকে ভয় পায়। কিন্তু একটু গভীরভাবে ভাবলে দেখা যায়, এই অন্ধকারে আবার প্রশান্তির উচ্চ হয়ে ওঠে। ভালো না থাকাই চোখের ওপর চাপ, মন্দিরে ধীরে শান্ত হয়। মেডিটেশন বা ধ্যানে সময় অনেকেই এই অন্ধকার কল্পনার সাহায্য নেন, কারণেতে মন একাগ্র হতে সহজ হয়।
 
অন্ধকার কল্পনা করা আমাদের আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ দেয়। ব্যস্ত জীবনের আলো, শব্দ আর দৃশ্যের ভিড় থেকে বেরিয়ে এসে আমরা নিজের সঙ্গে কথা বলার সময় পাই। এখানে বাহ্যিক কোন বিভ্রান্তি নেই, শুধু নিজের চিন্তা আর শুধু নিজের চিন্তা অনুভূতি। তাই চোখ বন্ধ করে সম্পূর্ণ অন্ধকার কল্পনা করা শুধু একটি মানসিক অনুশীলন নয়, বরং নিজেকে  জানার একটি সহজ কিন্তু গভীর পথ। 

ঘুম না আসলে যেসব দোয়া পড়বেন

ঘুম না আসলে যেসব দোয়া পড়বেন। ঘুম মানুষের শরীর ও মনের জন্য খুবই জরুরী। কিন্তু অনেক সময় দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত চিন্তার কারণে ঘুম আসেনা। এমন অবস্থায় ইসলাম আমাদের কিছু সুন্দর দোয়া শিখিয়েছেন, যা বলে মন শান্ত হয় এবং ঘুম আসতে সাহায্য করে। 
ঘুমের আগে পড়ার দোয়া 

ঘুমাতে যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়াটি পড়তেন-
''আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহ ইয়া।"
অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার নামে আমি ঘুমাই এবং জাগি।

ঘুম না এলে পড়ার দোয়া
যদি বারবার ঘুম ভেঙ্গে যায় বা ঘুমই না আসে, তাহলে এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে-"আল্লাহুম্মা গারতিন নুজুম, ওয়া হাদাআতিল উয়ুন,আনতা হাইয়্যুন ক্বাইয়্যুম।"
অর্থ: হে আল্লাহ, নক্ষত্র গুলো নিস্তব্ধ, চোখগুলো শান্ত। তুমি চিরঞ্জীব ও সবকিছু ধারক। 
আয়াতুল কুরসি ও তিন কুল 
ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পরলে শয়তানের কুমন্ত্রণা দূরে থাকে এবং মনে প্রশান্তি আসে। 
উপসংহার 
ঘুম না আসলে অস্থির না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া উত্তম। দোয়া, জিকির ও আল্লাহর উপর ভরসা করলে মন শান্ত হয় এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ঘুম ফিরে আসে। 

৪-৭-৮ শ্বাস- প্রশ্বাস পদ্ধতি

৪ ৭ ৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি একটি সহজ কিন্তু কার্যকর শ্বাস নেওয়ার কৌশল, দানা দিলে যা মানসিক চাপ কমানো, উদ্যোগ দূর করা এবং ঘুমের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। এই পদ্ধতি জনপ্রিয় করেন ডক্টর অ্যান্ডরু ওয়েল। নিয়মিত চর্চা করলে এটি শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

এই পদ্ধতির মূল নিয়ম খুবই সহজ। প্রথমে নাক দিয়ে ধীরে ধীরে চার সেকেন্ড শ্বাস নিতে হয়। এরপর সেই শ্বাস 7 সেকেন্ড ধরে রাখতে হয়। তারপর মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ৮ সেকেন্ড শ্বাস ছাড়তে হয়। এটিই একেবারের চক্র। সাধারণত শুরুতে ৩ থেকে ৪ বার করাই যথেষ্ট। ৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি মূলত আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। শ্বাস ধরে রাখার সময় শরীরে অক্সিজেনের সঠিক ব্যবহার হয় এবং শ্বাস ছাড়ার সময় শরীর থেকে চাপ ও অস্থিরতা বেরিয়ে যায়। এর ফলে হৃদস্পন্দন ধীরে হয় এবং মন শান্ত হয়। 

যারা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ঘুমের সমস্যা বা রাগ নিয়ন্ত্রণে কষ্ট পান তাদের জন্য এই পদ্ধতি খুবই উপকারী। দিনে1 থেকে দুইবার নিয়মিত অনুশীলন করলে মানসিক স্থিরতা বাড়ে এবং মনোযোগ উন্নত হয়। সহজ হাওয়াই যে কেউ ঘরে বসেই এই পদ্ধতি অনুশীলন করতে পারে

ঘুমের আগে আলো ও শব্দ কমানো

ভালো ও গভীর ঘুমের জন্য ঘুমের আগে আলো ও শব্দ কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক জীবনে মোবাইল টিভি ল্যাপটপ এবং আশেপাশে শব্দ আমাদের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয় তাই স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি করা জরুরী। ঘুমের আগে অতিরিক্ত আলো কমালে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে যা ঘুমানোর জন্য দায়ী। 

বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও টিভির নীল আলো মস্তিষ্কে সক্রিয় রাখে এবং ঘুম আসতে দেরি হয়। তাই ঘুমের অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট আগে স্ক্রিন বন্ধ করা উচিত। ঘরে হালকা বা উষ্ণ আলো ব্যবহার করলে চোখ ও মস্তিষ্ক দ্রুত শান্ত হয়। শব্দ দূষণ ও ঘুমের বড় শত্রু। জোরে কথা, আফাস বা বাহিরের কোলাহল ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয় ঘুমানোর সময় চারপাশ শান্ত রাখলে মস্তিষ্ক সহজে বিশ্রাম নিতে পারে। 

প্রয়োজনে নরম প্রাকৃতিক শব্দ বা হালকা সাদা শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘুমের আগে আলো ও শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখলে ঘুমের মান উন্নত হয়, মানসিক চাপ কমে এবং শরীর দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস গড়ে তুললে অনিদ্রা সমস্যা কমে এবং প্রতিদিন সকালে নিজেকে বেশি সতেজ ও কর্মক্ষম মনে হয়। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত আলো ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া। আপনি যদি প্রতিদিন নিয়মিত এই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন তাহলে ঘুমের মান উন্নত হয় মন শান্ত থাকে এবং পরদিন শরীর সতেজ অনুভব হয়।

শেষ কথা, ১ মিনিটে ঘুম আসার উপায়

১ মিনিটে ঘুম আসার উপায় মূলত সঠিক অভ্যাস ও শান্ত পরিবেশের উপর নির্ভর করে। ঘুমের আগে আলো ও শব্দ কমানো মোবাইল ও স্ক্রিন ব্যবহার সীমিত করা এবং মনকে শান্ত রাখাই দ্রুত ঘুমানোর সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। পাশাপাশি ৪-৭৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি গভীর শ্বাস নেওয়া এবং শরীরকে সম্পূর্ণভাবে শীতল করার অভ্যাস ঘুম আসতে সাহায্য করে। 

নিয়মিত একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা এবং ঘুমের পরিবেশ আরামদায়ক রাখা দ্রুত ঘুমানোর উপায় হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক জীবনে দুশ্চিন্তা ও অতিরিক্ত স্কিন ব্যবহার ঘুমের প্রধান বাধা তাই ঘুমের আগে শরীর ও মনকে শান্ত করার কৌশল গুলো অভ্যাসে পরিণত করা জরুরী নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এক মিনিটে ঘুম আসার পদ্ধতি শুধু সম্ভবই নয় বরং ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে।

১-মিনিটে-ঘুম-আসার-উপায়-জেনে-নিন

 রাতে ঘুমানোর আগে মানুষের চাপ কমানোর জন্য ঘুমের আগের দুশ্চিন্তা করা থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। ঘুমানোর আগে কিছু সুন্দর সুন্দর বই পড়া এবাদত ধ্যান বা শান্ত সুরের সংগীত মনকে প্রশান্ত করে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস শরীরকে একটি নিয়মে নিয়ে আসে। এক মিনিটে ঘুম আসার উপায় হিসেবে এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে অনিদ্রা কমে ঘুম গভীর হয় এবং শরীরও মন সুস্থ থাকে।
আজ আর নয় এরকম আরো তথ্য পেতে আমাদের এই ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন। কারণ আমরা প্রতিনিয়ত এরকম বিভিন্ন আর্টিকেল পাবলিস্ট করে থাকি সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ক্রিয়েটিভ ভেরিটিনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url