চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে
বলি চুলের যে মূল প্রোটিন ও স্কাল্প কমে যায় এবং চুলে ফাটল ধরে চুল ঝরে
যায় ও রুগ্ন হয়ে যায়। ভিটামিন-৭ বা বায়োটিন এর অভাবে চুল পড়ে যায়।
আর মাথায় খুশকি দেখা যায় মাথার ত্বকের মৃত কোষের জন্য। সাধারণভাবে এই মৃত কোষ
আমরা দেখতে পাই না। মাথার ত্বকে যখন নতুন কোষ তৈরি হয় তখন পুরনো কোষগুলো ঝরে
পড়ে এবং এই খুশকির প্রভাব দেখা দেয়। চলুন এর বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা। চুল পড়া ও খুশকি
এটা আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী এটা আমাদের কমবেশি সবারই হয়ে থাকে। আমাদের নানান
কারণে এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের কারণে এই সমস্যায় মুখোমুখি হই আমরা। আমাদের
দৈনন্দিন জীবনে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার স্কাল্পের অতিরিক্ত শুষ্কতা বাহ্যিক
দূষণ অতিরিক্ত তৈলাক্ততা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এর কারণে এই সমস্যার
ভুক্তভোগী আমরা। তবে যেখানেই সমস্যা সেখানেই সমাধান।
আমরা যদি ঠিকঠাক মতো চুলের যত্ন নেই তাহলে অবশ্যই চুল পড়া এবং মাথার খুশকি
দূর করা সম্ভব। আজকে আমরা অবশ্যই জানবো খুশকি এবং চুল পড়া কিভাবে রোধ করা যায়
তার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে। তবে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে যে জিনিস ব্যবহার করতে
হবে চুল পড়ার রোধে সেই জিনিসে কারো এলার্জি আছে কিনা সেটার দেখে খেয়াল রেখে
পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। আসলে আমাদের চুল পড়া ও খুশকির পিছনে থাকে আমাদের ভুল
খাদ্যগ্রহণ, অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত শ্যাম্পু বা কেমিক্যাল পণ্য ব্যবহার করা এবং
স্কাল্পের ইনফেকশন।
এছাড়াও বিরাট সমস্যা মানসিক চাপ যা চুল পাকা থেকে ঝরে পড়তে সাহায্য করে।
তাই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে দৈনন্দিন মাথার যত্ন নিয়ে। যেমন নারকেলের তেল
অলিভ অয়েল এবং নিম পাতা ব্যবহারের মাধ্যমে। নিমপাতা ব্যবহার করলে চুলের গোড়া
মজবুত হয় এবং খুশকি দূর করতে নিমপাতা তুলছি এবং এলোভেরা জেল খুবই কার্যকর।
আসলে চুল পড়া সাধারন একটি সমস্যা চুল পড়বেই কারণ এক হাজার দিন পর পর চুল
পাল্টাতে থাকে। একসঙ্গে অনেকগুলো চুল পড়লে সেটা সমস্যা। ধরলাম মাথায় এক লক্ষ
চুল আছে তার ভিতরে প্রায় দশ হাজার চুল পড়ে যাচ্ছে। তখন মানুষের মধ্যে
দুশ্চিন্তার ভাব চলে আসে এই বুঝি আমার মাথা টাক হয়ে যাবে। চুল পড়ার অন্যতম কারণ
আমি মনে করি মানসিক চাপ অতিরিক্ত চিন্তা দুশ্চিন্তা এবং অনিয়মিত ঘুম যা
স্কাল্পের রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয় এবং চুলকে দুর্বল করে দেয় যা পড়ে ঝরে
যায়।
চুলে পুষ্টির অভাব দেখা দিলেও চুল পড়ে যায় এবং খুশকির প্রভাব ঘটে। আমাদের শরীরে
ভিটামিন বি আয়রন জিঙ্ক এবং প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দিলে চুলের গোড়া সহজেই দুর্বল
হয়ে পড়ে যায়। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করে থাকি যেমন
স্ট্রেইটনার হেয়ার কালার দুলহান হিট স্টাইলিং যা চুলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং
অতিরিক্ত এসব ব্যবহার করার ফলে চুল পড়ে যায়। এছাড়াও দূষণ এবং হরমোনজনিত
সমস্যার কারণেও চুল পড়ে যায়।
চুল পড়া রোধ করতে হলে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হল নিয়মিত তেল ম্যাসাজ করা।
নারকেলের তেল এলোভেরা বা নিম পাতা বেটে লাগানো এবং অলিভ অয়েল তেল গরম করে
স্কাল্পে ভালোভাবে লাগালে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং চুলের গোড়া শক্ত হয়। সপ্তাহে
দুদিন ব্যবহার করাই ভালো। এবং খুশকি দূর করতে চাইলে দুই থেকে তিন দিন পর পর
মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
এছাড়া ওষুধের ফার্মেসিতে ওডিসি শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন তাহলেও খুশকি
দূর করা সম্ভব। প্রাকৃতিক হেয়ার প্যাক যেমন এলোভেরা মেথি বা আমলা ব্যবহার করলে
চুল পড়া বন্ধ হয় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। চুল পড়া কমাতে জরুরী
পুষ্টিকর খাদ্য যেমন মাছ দুধ ডিম বাদাম শাকসবজি ও ফল যা আমাদের শরীরের চুলের
প্রয়োজনে ভিটামিন পাওয়া যায়।
চিরতরে খুশকি দূর করার উপায়
শীতকাল আসলেই মাথায় খুশকির পরিমাণ বেড়ে যায়। শীতকালে মাথা চুলকানো এবং খুশকি
একটি বিরক্তিকর সমস্যা। এই চিরতরে খুশকি দূর করতে চাইলে বাজারে বিভিন্ন ধরনের
আন্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু পাওয়া যায় যা খুশকি কিছুটা দূর করে। চর্মরোগ
বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললে খুশকি চিরতরে দূর হয়ে যাবে। তারা
বলেছেন নারকেল তেল, অ্যাপল সাইডার ভিনেগার, এলোভেরা জেল, অলিভ অয়েল ইত্যাদি
প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে খুশকির বিরুদ্ধে দারুণভাবে কাজ করে।
নারকেল তেল মশ্চারাইজিং গুন এবং লেবুর এন্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য মাথার ত্বকের পিএইচ
ঠিকঠাক রাখে এবং খুশকি কমায়। যেকোনো মানুষ এইভাবে ব্যবহার করবে যেমন দুই চামচ
নারকেল তেল এবং এক চামচ লেবুর রস মিশাতে হবে । তারপরে স্কাল্পে ১০ থেকে ১৫ মিনিট
ম্যাসাজ করতে হবে এবং পরে ৩০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলতে হবে তাহলেই ভালো ফলাফল পাওয়া
যাবে।
আবার এলোভেরা জেল স্কাল ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং চুলকানি কমায় এটি ফাংগাল
কমাতেও সাহায্য করে। এলোভেরা জেল স্কাল্পে ভালোভাবে লাগিয়ে নিয়ে ৩০ মিনিট পর
ধুয়ে ফেলতে হবে। এছাড়াও নিম পাতা ও মধু চুল পড়া ও খুশকির জন্য ব্যাপকভাবে কাজ
করে থাকে নিম পাতার অ্যান্টিফাঙ্গাল ও এন্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ খুশকি দূর করার
জন্য দারুন ভাবে কাজ করে।
নিম পাতা ও পেঁয়াজের রস এবং অ্যালোভেরা চুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
নিমপাতা পিয়াজের রস এবং এলোভেরা এই তিনটি উপাদানে প্রাকৃতিক উপাদান যার চুলের
জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এসব প্রতিটি উপাদানই চুলের ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার সমাধানে
দারুন ভাবে কাজ করে। যেমন নিম পাতায় রয়েছে অ্যান্টিক ফাঙ্গাল ও এন্টি
ব্যাকটেরিয়াল গুণ যা খুশকি দূর করে এবং স্কাল পরিষ্কার রাখে। এতে রয়েছে সালফার
যা স্কাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং নতুন চুল গজিয়ে থাকে। পেঁয়াজের রস
নিয়মিত স্কাল্পে লাগালে চুল দ্রুত ঘন হয় এবং চুল ভাঙ্গে না এবং ঝরে না। এসব
উপাদান ব্যবহার করলে চুলের রং ধরে রাখতে পারে।
অ্যালোভেরা স্কাল্পকে ঠান্ডা রাখে এবং শুষ্কতা দূর করে। এলোভেরাতে থাকা ভিটামিন ও
অ্যাঞ্জাইম চুলকে আদ্র রাখে এবং মাথায় চুলকানি খুশকি ও রুক্ষতাকে কমায়।
অ্যালোভেরা জেল মাথার চুলে লাগালে চুল নরম উজ্জ্বল ও শক্তিশালী হয়ে থাকে। নিম
পাতা পিয়াজের রস এবং এলোভেরা এই তিনটি উপাদান একসাথে ব্যবহার করলে চুলের
স্বাস্থ্য উন্নত থাকে। তাই চুলকে শক্তিশালী ঘন ও খুশকি মুক্ত রাখতে হলে নিমপাতা
পেঁয়াজের রস এবং অ্যালোভেরা নিয়মিত ব্যবহার দারুন ফল দেয়।
তৈলাক্ত খুশকি দূর করার উপায়
খুশকি মাথার ত্বকে সাধারণত অতিরিক্ত তেল উৎপাদন মৃত কোষ জমে থাকা এবং ছত্রাকের
সংক্রমণ এর কারণে হয়ে থাকে। খুশকি হওয়ার প্রধান কারণ হলো মালাসেজিয়া নামক
ঠান্ডায় মাথার ত্বকের তেল থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে মূলত এই কারণেই এই বিব্রতকর
খুশকি হয়ে থাকে। ত্বকের শুষ্কতা মানসিক চাপ অনিয়মিত চুলের খুশকির প্রবণতা
বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও হরমোন জনিত পরিবর্তন এলার্জি এবং পুষ্টির কারণেও হয়ে
থাকে। তবে সঠিক চুলের যত্ন এবং স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের পরিবর্তনের ফলে এটি
নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
গরম পানি দিয়ে চুল ধুলে এটি স্কাল্পে তেল কমাতে সাহায্য করে। তেল তেলে স্কাল্পে
ভারী তেল বা কন্ডিশনার স্কাল্পে না লাগিয়ে শুধুমাত্র চুলের ডগায় লাগানো
ভালো।মাথার ত্বকের মৃত কোষের অতিরিক্ত ঝরে পড়ার ফলে খুশকি হয়ে থাকে যা চুলের
সৌন্দর্যকে নষ্ট করে এবং চুল পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে তৈলাক্ত খুশকি দূর করার উপায় হল অ্যান্টি ড্রেনড্রাফ শ্যাম্পু এবং লেবু,
এলোভেরা জেল, মানি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই খুশকি দূর করা সম্ভব। যদি
খুশকি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তবে খুশকি
দীর্ঘস্থায়ী থাকার কারণ হলো ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের ক্ষেত্রে
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে।
লেবু একটি খুশকির জন্য দারুন একটি উপাদান। লেবুর রস মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট
পরে ধুয়ে ফেলুন। ভুতে থাকা এন্টি ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য খুসকি কমাতে দারুন
ভাবে কাজ করে। লেবুর রস এ রয়েছে শক্তিশালী এন্টিফাঙ্গাল ও এন্টি ব্যাকটেরিয়াল
গুণ যা খুশকি দূর করার জন্য একটি কার্যকর উপায়। খুশকির প্রধান কারণ হলো স্কাল্পে
ফাংগাস বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত তেল জমে থাকা। এই লেবুর এসিড মৃত কোষ কে পরিষ্কার করে
এবং খুশকি দ্রুত কমে যায়। একটি লেবুর গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ করুন, তারপরে লেবু
কেটে রস বের করুন। তারপরে মাথার ত্বকে লেবুর রসটি ম্যাসাজ করুন।
বিশ মিনিট পর তা ধুয়ে ফেলুন সপ্তাহের দু তিনবার করলে ফল ভালো পাওয়া যায়। তবে
অতিরিক্ত ব্যবহার করলে সেন সিটিভ থাকলে লেবুর রস জ্বালাপোড়া করতে পারে। তাই
পরিমাণ মতো নিয়ে বা দুই থেকে তিন চামচ লেবুর রসের সাথে পানি মিশিয়ে দিন চাইলে
এলোভেরা বা নারকেল তেল মিশিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন। গুলো চুল পড়া কমায় চুলকে
শক্তিশালী ও মসৃণ করে। লেবু খুশকি দূর করার পাশাপাশি স্কাল্পের ব্যাকটেরিয়া
কমিয়ে দেয়।
খুশকি দূর করার শ্যাম্পু
খুশকি মানুষের জীবন একটি সাধারণ সমস্যা তবে এর সঠিক যত্ন নিলে এটি দূর করা সম্ভব।
খুশকি দূর করার জন্য আমাদের সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচন করতে হবে তা না হলে খুশকি দূর
করার বদলে চুলি ঝরে পড়ে যাবে। খুশকির মূল কারণ হলো কাল্পে ফাঙ্গাস অতিরিক্ত তেল
জমা এবং মৃত কোষের স্তর পড়ে যায় এর কারণে মূলত খুশি হয়।। তবে বাজারে ভালো
আন্টি ড্র্যানড্রাফ শ্যাম্পু খুশকি কমিয়ে স্ক্যাল্পকে পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর
রাখে। খুশকি দূর করার শ্যাম্পুতে সাধারণত জিংক পিরিথিয়ন, কেটোকোনাজল, সালীসাইলিক
এসিড, বা সেলেনিয়াম সালফাইট থাকে যা খুশকি সৃষ্টি করা মাইক্রো অর্গানিজম ধ্বংস
করে এবং স্কাল্পের তেলভাব দূর করে।
তবে শ্যাম্পু ব্যবহার করার পদ্ধতি জানা খুবই জরুরী। কারণ অতিরিক্ত শ্যাম্পু
ব্যবহার করলে চুল পড়ার সম্ভাবনা থাকে। চুল ভেজানোর পর শ্যাম্পু স্কাল্পে
ভালোভাবে লাগে দুই থেকে তিন মিনিট রেখে দিন যাতে সক্রিয় উপাদান গুলো কাজ করতে
পারে। এরপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন সপ্তাহের দুই থেকে তিনবার নিয়মিত ব্যবহার করলে
আপনার খুশকি দ্রুত কমে যাবে। তেল তেলে স্কেল্পের জন্য ওয়েল ফ্রি বা ক্লারিফাইং
এন্ট্রি এন্ট্রি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু বেশি কার্যকর।
মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায়
মেয়েদের মাথার খুশ সে একটি সাধারন সমস্যার নাম হলেও মেয়েদের চুলের সৌন্দর্য
আত্মবিশ্বাস ও এর উপর প্রভাব ফেলে। পুষ্টির কারণে চুলকানি মাথার ত্বক শুষ্কতা
অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব এবং চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে কিছু সহজ ও
কার্যকর পদ্ধতি ব্যবহার বা অনুসরণ করলে মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করা সম্ভব।
খুশকি দূর করতে প্রথমে স্কাল্প পরীক্ষার রাখা জরুরী। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার
এন্টি ডেন্ড্রাপ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ফাংগাল ইনফেকশন কমে এবং মৃত কোষ দূর
হয়।
এছাড়া মেয়েরা লেবুর রস অ্যালোভেরা ও নিম পাতার রস এসকালপে লাগালে প্রাকৃতিকভাবে
খুশকি কমে যায়। মেয়েদের চুলে অতিরিক্ত তেল বা স্টাইলিং প্রোডাক্ট ব্যবহারের
কারণে স্কাল্পে ময়লা জমে খুশকি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত চুল ধোয়া এবং হালকা
চুলের যত্ন নেওয়া দরকার। গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে এড়ানো উচিত কারণ এটি
স্ক্যাল্প কে আরো শুষ্ক করে দেয়। তবে মেয়েদের সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম
পানি পান এবং স্ট্রেস কমানো খুশকি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি
দীর্ঘদিন খুশকি না কমে বা চুল পড়তে থাকে তাহলে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
নেওয়া উচিত। নিয়মিত যত্ন নিলে মেয়েদের মাথার খুশকি দীর্ঘস্থায়ীভাবে কমে এবং
চুল সুন্দর ঘন স্বাস্থ্যকর হয়।
চুল পড়া ও খুশকি দূর করার ঘরোয়া উপায়
চুল পড়া ও খুশকির দূর করার ঘরোয়া উপায় তোর কে আমরা অনেকেই জানিনা কিন্তু
ঘরোয়া উপায় হল চুল পড়া ও খুশকি দূর করার প্রধান উপায়। চুল পড়া ও খুশকি
প্রায় সকল মানুষেরই একটি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আর শীতকালে তো সবার
মাথায় খুশকি দেখা যায়। কবে চুল ঝরে পড়া এবং খুশকি দূর করার অন্যতম কারণ হলো
অতিরিক্ত মানসিক চাপ ভুল খাদ্য অভ্যাস অনিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার পরিবেশ দূষণ এবং
হরমোন জনিত কারণে এর সমস্যা হয়ে থাকে। চুল পড়ে যাওয়া বন্ধের উপায় এবং খুশকি
দূর তার উপায় বা পদ্ধতি গুলো অত্যন্ত কার্যকর এবং নিরাপদ নিজে কিছু পদ্ধতি
দেওয়া হলো
নারকেল তেল ও লেবুর রস
নারকেল তেল ও লেবুর রস চুলের গভীরে পুষ্টি যোগায় এবং লেবুতে থাকা সাইটিক এসিড
মাথার ত্বক পরিষ্কার করে থাকে। এটি ত্বকের ফাঙ্গাস দূর করতে সাহায্য করে। নারকেল
তেলে এবং লেবুর রস মিশে মাসাজ করলে খুশকি কমে যায় এবং চুলের গোড়া শক্তিশালী
হয়ে থাকে।
মেথি বীজ
মেথিবীজ চুলের যত্নে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এতে থাকা ভিটামিন
আইরন প্রোটিন ও নিকোটিনিক এসিড চুলকে ভেতর থেকে পুষ্টি দেয় এবং বিভিন্ন চুলের
সমস্যার সমাধান করে থাকে। মেথি বিজি থাকা প্রোটিন ও লেজিথিন চুলের গোড়া শক্ত করে
এবং চুল ভাঙ্গা কমাতে সাহায্য করে। মেথির এন্টিফাঙ্গাল গুণ স্কাল্পের ফাঙ্গাস দূর
করে খুশকি কমায়।
অ্যালোভেরা জেল
এলোভেরা জেল চুলের যত্নে একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক উপাদান যা চুল ও স্কাল্পকে ভেতর
থেকে পুষ্টি দিয়ে নানা ধরনের সমস্যার সমাধান করে থাকে। এলোভেরাতে রয়েছে ভিটামিন
এ সি ই ও এমাইনো এসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এলোভেরা জেল গালফ ঠান্ডা ও আরাম দিতে সাহায্য করে এবং
জ্বালাপোড়া এবং চুলকানি দূর করতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা জেল চুলের গোড়ায়
পুষ্টি যোগায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজের রস চুলের শক্তি বৃদ্ধি ও মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে দারুন কাজ
করে। এতে থাকা সালফার রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় যা চুলের ফলিকল কে শক্তিশালী করে এবং
নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন মাথার ত্বকে পেঁয়াজের রস
লাগালে একটি দারুন ফল পাওয়া যায়।
নিমের পাতা
নিম পাতা চুল ও মাথার ত্বকের একটি অসাধারণ ভেষজ উপাদান। নিমপাতাই রয়েছে
অ্যান্টিফাঙ্গাল, এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি গুণ যা খুশকি দূর
করতে সাহায্য করে। মাথার ত্বকের চুলকানি লালচে ভাব এবং ফুসকুড়ি থাকলে নিমের রস
বা নিমের পানি অত্যন্ত কার্যকর। মিম চুলের গোড়াকে শক্ত করে চুল পড়া বন্ধ করে
এবং মাথার ত্বককে পরিষ্কার রাখে।
চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় সম্পর্কে আমরা অনেকেই এই আর্টিকেল থেকে জানলাম।
চুল পড়া মানুষের জীবনে একটি সাধারন সমস্যা যা সব বয়সের মানুষেরই হয়ে থাকে। চুল
পড়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে যেমন জেনেটিক্স হরমোনাল পরিবর্তন পুষ্টির
অভাব মানসিক চাপ অনিয়মিত জীবন যাপন। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস চুল পড়া কমাতে এবং
চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
চুলের জন্য সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করলে চুল এবং খুশকি সব কিছুই দূর করা
সম্ভব। প্রোটিন ভিটামিন, আয়রন মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করে
এবং চুল পড়া কমায়। এছাড়াও চিনি প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অ্যালকোহল গ্রহন
থেকে বিরত থাকতে হবে। চুল পড়া ও খুশকি দূর করার উপায় যদি প্রাকৃতিক উপাদান
ব্যবহার করি তাহলে এটি বন্ধ করা সম্ভব।
তেমন সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে ভিটামিন গ্রহণ করতে হবে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে এতে
ভেতরের পুষ্টি ও পর্যাপ্ত পানি এই দুটোই চুলকে ঘন শক্তিশালী ও উজ্জ্বল করতে
পারবে। আজকে আর নয়। এরকম আরো তথ্য বা সেবা পেতে আমাদের এই ওয়েবসাইটের সাথেই
থাকুন আমরা প্রতিদিন নিয়মিত এরকম আর্টিকেল পাবলিস্ট করে থাকি সবাইকে অসংখ্য
ধন্যবাদ।
ক্রিয়েটিভ ভেরিটিনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url